কুরবানির গরু কিনতে কী কী দেখা উচিত?
কুরবানির গরু কেনা আমাদের জন্য শুধু একটি বাজারের সিদ্ধান্ত নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের প্রস্তুতি। তাই গরু কেনার সময় আবেগ বা শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে, কয়েকটি বিষয় ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।
প্রথমেই গরুর বয়স নিশ্চিত করুন। কুরবানির জন্য গরুর বয়স কমপক্ষে দুই বছর হওয়া জরুরি। সাধারণত দাঁত দেখে বয়সের ধারণা পাওয়া যায়। অভিজ্ঞ কেউ সঙ্গে থাকলে বিষয়টি যাচাই করা সহজ হয়।
এরপর গরুর স্বাস্থ্য ভালোভাবে দেখুন। সুস্থ গরুর চোখ উজ্জ্বল থাকে, নাক-মুখ পরিষ্কার থাকে এবং হাঁটা-চলা স্বাভাবিক হয়। গরুটি যদি খুব দুর্বল দেখায়, বেশি হাঁপায়, কাশি থাকে, মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা পড়ে বা খোঁড়ায়, তাহলে সেটি এড়িয়ে চলাই ভালো।
শরীরের গঠনও গুরুত্বপূর্ণ। গরুর বুক চওড়া, পিঠ সোজা, পা মজবুত এবং শরীর ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া ভালো লক্ষণ। তবে শুধু বেশি মোটা দেখলেই ভালো গরু মনে করা ঠিক নয়। অনেক সময় অসাধু উপায়ে গরুকে অস্বাভাবিকভাবে ফুলিয়ে তোলা হয়, যা পরে ক্ষতির কারণ হতে পারে।
চামড়া ও লোমের দিকেও খেয়াল করুন। সুস্থ গরুর লোম সাধারণত মসৃণ ও চকচকে হয়। শরীরে বড় ক্ষত, ফোলা, চর্মরোগ বা পুঁজ থাকলে সেই গরু না কেনাই ভালো।
গরুর আচরণও অনেক কিছু বলে দেয়। সুস্থ গরু সাধারণত সতেজ থাকে, খাবারের প্রতি আগ্রহ দেখায় এবং স্বাভাবিকভাবে দাঁড়ায় ও হাঁটে। খুব বেশি নিস্তেজ, অস্বাভাবিক শান্ত বা অসংলগ্ন আচরণ করলে সতর্ক হওয়া উচিত।
কুরবানির পশু হিসেবে গরুর বড় ধরনের শারীরিক ত্রুটি আছে কি না সেটিও দেখে নিন। চোখ অন্ধ হওয়া, পা খোঁড়া, কান বা লেজের বড় অংশ কাটা, গুরুতর আঘাত বা স্পষ্ট দুর্বলতা থাকলে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও সমস্যা হতে পারে।
দাম ঠিক করার সময় শুধু গরুর আকার নয়, বয়স, স্বাস্থ্য, শরীরের গঠন, বাজারদর এবং বাস্তব মাংসের সম্ভাবনা বিবেচনা করুন। সম্ভব হলে অভিজ্ঞ কাউকে সঙ্গে নিয়ে হাটে যান। কেনার পর বিক্রেতার নাম, মোবাইল নম্বর এবং পেমেন্টের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।
শেষ কথা হলো, কুরবানি একটি পবিত্র ইবাদত। তাই গরু কেনার সময় আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সুস্থ, হালাল এবং গ্রহণযোগ্য পশু নির্বাচন করা। সচেতনভাবে যাচাই করে গরু কিনলে ইবাদতও সুন্দর হয়, আর আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও কমে।

